প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস
১৯৩২ সনে বাবু কৃষ্ণ কুমার পণ্ডিত ও বাবু নবীন চন্দ্র হাওলাদার ও সুধীজনের উদ্দ্যেগে তৎকালীন জমিদার বাবু ধীরেন্দ্রনাথ সেনের বাড়ীর দরজায় মির্জাকালু মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন বাবু শ্যামলাল দত্ত। সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিকে একটি উন্নত মানের বিদ্যায়ে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রশংসার দাবীদার তিনি ১৯৩২ হইতে ১৯৫১ সন পর্যন্ত -মোট ১২ বছর প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্ব পালন করেন। শ্যামললে দত্তের আমলের ছাত্র ছিলেন ১৯৪৯ পাস করা বাবু অমৃতলাল হাওলাদার (শম্ভু। যিনি পরবর্তীতে আমেরিকার ক্যালিফনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন এবং বাবু গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এসব তথ্যদ্বারা প্রমানিত হয় মির্জাকালু হাই স্কুলটি নামকরা স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মির্জাকালু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৩ বৎসর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ ব্যক্তিবর্গ স্কুল্টির প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান শিক্ষাক বাবু শ্যামলাল দত্তের অবসর গ্রহন করার পর প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্ব পালন করেন সোলায়মান (এম,এ) তিনিও বিদ্যালয় পরিচালনায় সুনাম অর্জন করেন। সোলায়মান স্যারের স্বপ্ন ছিল সদ্য স্থানান্তরিত স্কুলটিকে পূনঃ প্রতিষ্ঠিত করে নিজে আত্নতৃপ্তি লাভ করেন। এবং স্কুল্টিকে ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার সপ্ন দেখেছিলেন। পরবর্তিতে ১৯৫৭ সালে প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্ব গ্রহন করেন আব্দুল হান্নান চৌধুরী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তৎকালীন সমগ্র ভোলা মহকুমার (বর্তমান জেলা), তিনি যতটা পরিচিতি লাভ করেছিলেন অন্য স্কুলের কোন প্রধান শিক্ষক ততটা পরিচিতি লাভ করতে পারেননি। স্কুলটিকে পূনঃ গঠিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। প্রধান শিক্ষাক হান্নান চৌধুরীর সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টার ফলে সে সময় মির্জাকালু হাই স্কুলটি বিশাল আকারের দ্বিতল বিল্ডিং এর রূপ ধারন করেছিলেন। তখন কার আমলে ভোলা জেলায় এরকম বিল্ডিং ছিলনা। তিনি স্কুলের পাকাঘর তৈরীসহ এর শ্রী বৃদ্ধিতে যে অবদান রেখে গেছেন তা অতুলনীয়। জনাব হান্নান চৌধুরী সাহেব ছিলেন তুলনা মূলক স্বতন্ত্র স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি অনর্গল ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে পারতেন , এজন্য থানা পর্যায়ের। মহকুমা পর্যায়ের। জেলা পর্যায়ের স্বর্বস্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ হতে স্কুলের সাথে কাজ হাছিল করার ছিলেন পারদর্শী। চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের গণিত শাস্ত্রের সাবেক বিভাগীয় প্রধান "অধ্যাপক ডঃ সাহাবুদ্দিন সাহেব অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন এলাকার জন্য হান্নান চৌধুরী স্যার ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রদূত। প্রধান শিক্ষক হান্নান চৌঃ স্যার নারী শিক্ষার ব্যাপারে যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা স্বরন রাখার মত। ১৯৭১ হতে ১৯৮৩ইং পর্যন্ত প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্ব পালন করেন মোঃ বালাগাত উল্যাহ মিয়া বি.এ বিএড। তিনি তার মেধা দিয়ে-শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করেছিলেন ১৯৭৯ সালে এস. এস. সি পরীক্ষায় যোশর বোর্ডে মেধা তালিকায় ৯ম স্থান অধিকার করেন। মোঃ আমির হোসেন ৯৯৮১ সালে যশোর বোর্ডে এস, এস.সি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১৯ তম স্থান লাভ করেন। দিপংকর চন্দ্র দেবনাথ বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়েছিলেন। বলাগত উল্ল্যাহ স্যারের আমলকে মির্জাকালু হাইস্কুলের স্বর্ন যুগ বলা চলে। ১৯৮৩ হইতে ১৯৮৯ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্বে ছিলেন মোঃ মোমেন চৌধুরী বি.এ বিএড, এম, এ, তিনি বিদ্যালয়ের উন্ননয়ন এবং পড়ালেখার প্রতি শিক্ষানুরাগী ছিলেন। এর পর। ১৯৯০ হতে ২০০৬ ইংপর্যন্ত প্রধান শিক্ষাকের দায়িত্ব পালন করেন, ইতি মধ্যে ১৯৯৭ ইং সনে নদী ভাংতির পর বর্তমান কাজির হাট বাজারে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বিদ্যাল প্রতি শ্রম ও মেধা দিয়ে উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলেন, বাবু রনজিৎ কুমারঃ ২০০৬ ২ইতে ২০১৩ ইং পর্যন্ত ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়টি ভাঙ্গাগড়ার মাধ্যও তিনি অক্রান্ত পরিশ্রম করেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন বি.এ বিএড, এম এ ২০১৩ ইং সনের ৭ই ফেব্রুয়ারী মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিতেছেন। তিনি এসে বিদ্যালয় টি জরাজীর্ণ অবস্থায় পান। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি গচারুরূপ পরিচালনার চেষ্টা করিতেছেন, এবং বিভিন্ন চেষ্টার মাধ্যমে ২০০০ সালে বিদ্যালয়টি ৪ তলা বিশিষ্ট এবং বিল্ডিং পেয়ে বিদ্যালয়টিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন । বর্তমানে পুরাতন শিক্ষক গন অবসর গ্রহন করার পর ৯ জন শিক্ষক বিদ্যালয়টির পড়ালেখার মানউন্নয়নের জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাইতেছেন।
মির্জাকালু হাইস্কুলের ইতিহাসে বহু ছাত্র বাংলাদেশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন মজিদ খান ডি.সি হইতে সচিব হয়েছিল। মেসবাউদ্দিন স্যার , প্রফেসর ডাঃ মেজর আব্দুল মান্নান (অবঃ) বর্তমান ভোলা জেলা সাব রেজিষ্টার এ.কে. এম ফয়েজ উল্ল্যাহ। ভোলা জেলার শিক্ষা অফিসার ছিলেন জাকিরুল হক (অবঃ) প্রফেসর ডঃ ইউসুফ হারুন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বায়ো ক্যামেস্টি ডিপার্টম্যান্টের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রফেসর শাহ মোহাম্মদ উল্ল্যাহ। অধ্যক্ষ আলতাফুল রহমান, মেজর নূরুল আমিন (অবঃ) বর্তমানং ডাচ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট, মোঃ সহিদুল্লাহ, সাবেক সচিব দিলিপ কুমার বনিক। প্রফেসর লুৎফর রহমান, ডাঃ পারভেজ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ব বিদ্যালয়ের কেমিষ্টির বিভাগীয় প্রধানছিলেন বর্তমানে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি এবং অসংখ্য ছাত্র মির্জাকালু স্কুলের সূর্যসন্তান ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ লিংক
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর
- বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)
- ইএমআইএস
- জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)
- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
- এনটিআরসিএ
- বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল
জরুরী হটলাইন